April 20, 2026, 1:34 am

সাইনবোর্ডে পুলিশের নাকের ডগায় আসলামের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকায় অপ্রতিরোধ্য চাঁদাবাজ আসলাম ওরফে বরিশাইল্লা আসলাম। র‌্যাব, থানা, ডিবি ও হাইওয়ে পুলিশের নাম ব্যবহার করে দৈনিক কমপক্ষে অর্ধলক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি করছে আসলাম বাহিনী। রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকা সড়ক বন্ধ করে থ্রি-হুইলার, লেগুনা, অটোরিক্সা থেকে চাঁদাবাজিসহ সড়কের দুপাশের শতাধিক দোকান থেকেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার কামরুলের অন্যতম সহযোগী সাহেবপাড়া এলাকার বরিশাইল্লা আসলামের নেতৃত্বে বাসেদ, রুবেল, সৈকত, দাত ভাঙ্গা রাসেল, সিয়ামসহ কয়েকজন চাঁদাবাজরা চাঁদাবাজি করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। সাইনবোর্ড, সাহেবপাড়া ও মিতালী মার্কেট এলাকায় চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংরোডের চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে অবৈধভাবে সড়ক দখল করে সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা আদায়ের জন্য বেতনভূক্ত কয়েকজন লোক নিয়োগ নিয়েছে আসলাম।
সরেজমিনে শনিবার সাইনবোর্ড গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি সিএনজি চালকের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে আসলামের নিয়োজিত রুবেল ও সৈকত। জানতে চাইলে তারা জানায় আসলামের নির্দেশে সিএনজি থেকে চাঁদা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক জানায়, চাঁদা না দিলে আসলাম ও তার লোকজন মারধর করে।
মহাসড়কে সিএনজি চলাচলে বিধি নিষেধ থাকায় আসলাম হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব ম্যানেজ করার কথা বলে চাঁদা নিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলাম ও কামরুল সিএনজি স্ট্যান্ড বাদেও সাহেবপাড়া বাজার থেকে মাসে দেড় লাখ টাকা, প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের ৬টি অ্যাম্বুলেন্স থেকে ৬ হাজার টাকা করে মাসে ৩৬ হাজার টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পার্কিং করে রাখা লাব্বাইক, লাভলী, অনাবিল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে গাড়ি প্রতি দৈনিক ২০০ টাকা করে ২ শতাধিক গাড়ি থেকে মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা, মহাসড়কের উত্তর পাশে বিভিন্ন পরিবহন টিকিট কাউন্টার থেকে ৫ হাজার করে মাসে দেড় লাখ টাকা, অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করছে।
এছাড়াও মিতালী মার্কেট, সাহেবপাড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিডিকে সিএনজি পাম্পের দক্ষিণ পাশে মাদকের আস্তানা, আনন্দলোক উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় একাধিক মাদক স্পট নিয়ন্ত্রন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবাহিনী।
তাদের বিরুদ্ধে মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে আসলামের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও রিসিভ করেননি। তবে এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন কামরুল।
হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই শরফুদ্দিন ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা